Dhaka ১০:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আলো জ্বালানোর নেপথ্যে’: ঝড়-বৃষ্টি আর অন্ধকারকে জয় করে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবায় লাইনম্যানরা

  • ডেক্স নিউজ
  • Update Time : ০৭:৫১:১৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২০ Time View

ঝড়বৃষ্টির রাতে যখন চারপাশ অন্ধকারে ছেয়ে যায়, আর মানুষ নিজের সুরক্ষায় ঘরের নিরাপদ কোণে আশ্রয় নেয়, ঠিক তখনই একদল সাহসী মানুষ নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বেরিয়ে পড়েন মাঠে। উদ্দেশ্য একটাই—বন্ধ হয়ে যাওয়া বিদ্যুতের সংযোগ সচল করে কোটি কোটি মানুষের ঘরে আবার আলোর হাসি ফুটিয়ে তোলা। বিদ্যুৎ খাতের এই নীরব বীরদের বলা হয় ‘লাইনম্যান’ বা বিদ্যুৎ কর্মী।

​বিদ্যুৎ সেক্টরের এসব কর্মীরা দিন-রাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে জনগণের নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত করে চলেছেন। কড়া রোদ, ভারী বৃষ্টি, কিংবা কনকনে শীত—কাজের ডাকে যেকোনো পরিস্থিতিতেই তাদের নামতে হয় বৈদ্যুতিক খুঁটিতে (পোলে)। হাজার হাজার ভোল্টের ট্রান্সফরমার, বিপজ্জনক তার এবং উঁচু পোলে চড়ে ত্রুটি মেরামতের কাজটি শুধু কঠিনই নয়, প্রতিটি পদে পদে জড়িয়ে থাকে জীবনের ঝুঁকি।

​ঝড়-তুফানে তার ছিঁড়ে যাওয়া, ট্রান্সফরমার বিকল হওয়া কিংবা কারিগরি জটিলতা দেখা দিলে তারা মুহূর্তের জন্যও ঘরে বসে থাকেন না। উৎসবের দিনগুলোতেও যখন পুরো দেশ পরিবার-পরিজন নিয়ে আনন্দে মেতে ওঠে, তখনো লাইনম্যানরা দায়িত্ব পালন করেন সাবস্টেশন কিংবা বৈদ্যুতিক লাইনে। তাদের এই আত্মত্যাগের কারণেই সচল থাকে দেশের শিল্পকারখানা, হাসপাতালের জরুরি চিকিৎসা সেবা এবং বাসাবাড়ির স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।

​গ্রাহকদের নিরবচ্ছিন্ন সেবা দেওয়ার পেছনে তাদের যে ঘাম ঝরানো পরিশ্রম রয়েছে, তা অনেক সময় আলোচনার আড়ালেই থেকে যায়। তবুও কোনো অভিযোগ ছাড়া তারা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন দেশ ও মানুষের কল্যাণে।

​বিদ্যুৎ সেক্টরের এই কর্মীদের প্রতি সম্মান ও সহানুভূতি জানানো প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব। তাদের অক্লান্ত শ্রম আর জীবনবাজি রাখা সেবার কারণেই আলোকিত থাকে আমাদের চারপাশ, সচল থাকে দেশের অর্থনীতির চাকা।

Tag :
About Author Information

Alauddin Mondal

জনপ্রিয়

পাবনায় প্রশাসনকে তোয়াক্কা না করে প্রাক্তন নৈশপ্রহরীর বসতঘর ভাঙচুরের অভিযোগ, চরম বিপাকে পরিবার

আলো জ্বালানোর নেপথ্যে’: ঝড়-বৃষ্টি আর অন্ধকারকে জয় করে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবায় লাইনম্যানরা

Update Time : ০৭:৫১:১৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঝড়বৃষ্টির রাতে যখন চারপাশ অন্ধকারে ছেয়ে যায়, আর মানুষ নিজের সুরক্ষায় ঘরের নিরাপদ কোণে আশ্রয় নেয়, ঠিক তখনই একদল সাহসী মানুষ নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বেরিয়ে পড়েন মাঠে। উদ্দেশ্য একটাই—বন্ধ হয়ে যাওয়া বিদ্যুতের সংযোগ সচল করে কোটি কোটি মানুষের ঘরে আবার আলোর হাসি ফুটিয়ে তোলা। বিদ্যুৎ খাতের এই নীরব বীরদের বলা হয় ‘লাইনম্যান’ বা বিদ্যুৎ কর্মী।

​বিদ্যুৎ সেক্টরের এসব কর্মীরা দিন-রাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে জনগণের নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত করে চলেছেন। কড়া রোদ, ভারী বৃষ্টি, কিংবা কনকনে শীত—কাজের ডাকে যেকোনো পরিস্থিতিতেই তাদের নামতে হয় বৈদ্যুতিক খুঁটিতে (পোলে)। হাজার হাজার ভোল্টের ট্রান্সফরমার, বিপজ্জনক তার এবং উঁচু পোলে চড়ে ত্রুটি মেরামতের কাজটি শুধু কঠিনই নয়, প্রতিটি পদে পদে জড়িয়ে থাকে জীবনের ঝুঁকি।

​ঝড়-তুফানে তার ছিঁড়ে যাওয়া, ট্রান্সফরমার বিকল হওয়া কিংবা কারিগরি জটিলতা দেখা দিলে তারা মুহূর্তের জন্যও ঘরে বসে থাকেন না। উৎসবের দিনগুলোতেও যখন পুরো দেশ পরিবার-পরিজন নিয়ে আনন্দে মেতে ওঠে, তখনো লাইনম্যানরা দায়িত্ব পালন করেন সাবস্টেশন কিংবা বৈদ্যুতিক লাইনে। তাদের এই আত্মত্যাগের কারণেই সচল থাকে দেশের শিল্পকারখানা, হাসপাতালের জরুরি চিকিৎসা সেবা এবং বাসাবাড়ির স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।

​গ্রাহকদের নিরবচ্ছিন্ন সেবা দেওয়ার পেছনে তাদের যে ঘাম ঝরানো পরিশ্রম রয়েছে, তা অনেক সময় আলোচনার আড়ালেই থেকে যায়। তবুও কোনো অভিযোগ ছাড়া তারা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন দেশ ও মানুষের কল্যাণে।

​বিদ্যুৎ সেক্টরের এই কর্মীদের প্রতি সম্মান ও সহানুভূতি জানানো প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব। তাদের অক্লান্ত শ্রম আর জীবনবাজি রাখা সেবার কারণেই আলোকিত থাকে আমাদের চারপাশ, সচল থাকে দেশের অর্থনীতির চাকা।