Dhaka ১০:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

উত্তরবঙ্গের অন্যতম বাণিজ্যিক প্রাণকেন্দ্র: টাটকা সবজি ও মাছের জন্য বিখ্যাত রাজশাহীর ঐতিহাসিক কেশরহাট

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১০:২৪:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২৫ Time View

রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার ঐতিহাসিক কেশরহাট শুধু একটি সাধারণ হাট নয়; এটি উত্তরবঙ্গের কৃষি ও মৎস্য বাণিজ্যের এক বিশাল অর্থনৈতিক হাব। প্রতিদিনকার এই হাটে টাটকা শাকসবজি, মাছ এবং মাংসের পসরা সাজিয়ে বসেন শত শত ব্যবসায়ী। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এখানকার পণ্য আজ পৌঁছে যাচ্ছে দেশের সীমানা ছাড়িয়ে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন প্রান্তে।

​ক্রেতা-বিক্রেতার মেলবন্ধন ও আঞ্চলিক পরিধি:-

​রাজশাহী ও এর আশপাশের কয়েকটি জেলার মানুষের নিত্যদিনের কেনাকাটার মূল ভরসা এই কেশরহাট। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে মোহনপুর উপজেলা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী বাগমারা, তানোর, পবা, দুর্গাপুর এবং নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলার মানুষ নিয়মিত এই হাটে আসেন। দূর-দূরান্ত থেকে আসা ক্রেতা-বিক্রেতাদের পদচারণায় প্রতিদিন মুখর থাকে এই ঐতিহাসিক হাটটি।

​টাটকা সবজির সুবিশাল সমারোহ:-

​এলাকার উর্বর মাটির কারণে উৎপাদিত টাটকা ও নিরাপদ সবজির জন্য কেশরহাটের রয়েছে বিশেষ খ্যাতি। কৃষকরা সরাসরি জমি থেকে তাজা সবজি নিয়ে আসেন এই হাটে।

  • ​ফুলকপি, বাঁধাকপি, বেগুন, পটল, করলা থেকে শুরু করে সব ধরনের মৌসুমী শাকসবজি পাওয়া যায় এখানে।
  • ​কম দামে তাজা সবজি পাওয়ার কারণে স্থানীয় খুচরা ক্রেতাদের পাশাপাশি পাইকারি ব্যবসায়ীদের ভিড়ও থাকে চোখে পড়ার মতো।

​দেশজুড়ে মাছের সরবরাহ:-

​সবজির পাশাপাশি মৎস্য বাণিজ্যের জন্য কেশরহাট এখন দেশজুড়ে পরিচিতি লাভ করেছে। এখানকার স্থানীয় আড়তগুলোতে প্রতিদিন বিশাল পরিমাণে দেশি ও চাষের মাছের লেনদেন হয়।

​বিশেষ আকর্ষণ: কেশরহাটের মাছের বাজার থেকে প্রতিদিন শত শত ট্রাক ও পিকআপ ভ্যানে করে মাছ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে পাঠানো হয়। রাজশাহী অঞ্চলের চাহিদা মিটিয়ে এই তাজা মাছগুলো চলে যায় রাজধানী ঢাকা, দক্ষিণাঞ্চল এবং উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায়।

 

​স্থানীয় অর্থনীতিতে অবদান:-

​ঐতিহ্যবাহী এই হাটটি কেবল স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান ও চাহিদাপূর্ণ পণ্য সরবরাহই নিশ্চিত করছে না, বরং পুরো অঞ্চলের অর্থনীতিকে সচল রাখতে চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে। কৃষকদের পরিশ্রমে উৎপাদিত ফসল এবং মৎস্যজীবীদের সংগৃহীত মাছ আজ দেশবাসীর আমিষ ও পুষ্টির চাহিদা পূরণে রাখছে অনন্য ভূমিকা।

Tag :
About Author Information

Alauddin Mondal

জনপ্রিয়

উত্তরবঙ্গের অন্যতম বাণিজ্যিক প্রাণকেন্দ্র: টাটকা সবজি ও মাছের জন্য বিখ্যাত রাজশাহীর ঐতিহাসিক কেশরহাট

উত্তরবঙ্গের অন্যতম বাণিজ্যিক প্রাণকেন্দ্র: টাটকা সবজি ও মাছের জন্য বিখ্যাত রাজশাহীর ঐতিহাসিক কেশরহাট

Update Time : ১০:২৪:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার ঐতিহাসিক কেশরহাট শুধু একটি সাধারণ হাট নয়; এটি উত্তরবঙ্গের কৃষি ও মৎস্য বাণিজ্যের এক বিশাল অর্থনৈতিক হাব। প্রতিদিনকার এই হাটে টাটকা শাকসবজি, মাছ এবং মাংসের পসরা সাজিয়ে বসেন শত শত ব্যবসায়ী। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এখানকার পণ্য আজ পৌঁছে যাচ্ছে দেশের সীমানা ছাড়িয়ে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন প্রান্তে।

​ক্রেতা-বিক্রেতার মেলবন্ধন ও আঞ্চলিক পরিধি:-

​রাজশাহী ও এর আশপাশের কয়েকটি জেলার মানুষের নিত্যদিনের কেনাকাটার মূল ভরসা এই কেশরহাট। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে মোহনপুর উপজেলা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী বাগমারা, তানোর, পবা, দুর্গাপুর এবং নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলার মানুষ নিয়মিত এই হাটে আসেন। দূর-দূরান্ত থেকে আসা ক্রেতা-বিক্রেতাদের পদচারণায় প্রতিদিন মুখর থাকে এই ঐতিহাসিক হাটটি।

​টাটকা সবজির সুবিশাল সমারোহ:-

​এলাকার উর্বর মাটির কারণে উৎপাদিত টাটকা ও নিরাপদ সবজির জন্য কেশরহাটের রয়েছে বিশেষ খ্যাতি। কৃষকরা সরাসরি জমি থেকে তাজা সবজি নিয়ে আসেন এই হাটে।

  • ​ফুলকপি, বাঁধাকপি, বেগুন, পটল, করলা থেকে শুরু করে সব ধরনের মৌসুমী শাকসবজি পাওয়া যায় এখানে।
  • ​কম দামে তাজা সবজি পাওয়ার কারণে স্থানীয় খুচরা ক্রেতাদের পাশাপাশি পাইকারি ব্যবসায়ীদের ভিড়ও থাকে চোখে পড়ার মতো।

​দেশজুড়ে মাছের সরবরাহ:-

​সবজির পাশাপাশি মৎস্য বাণিজ্যের জন্য কেশরহাট এখন দেশজুড়ে পরিচিতি লাভ করেছে। এখানকার স্থানীয় আড়তগুলোতে প্রতিদিন বিশাল পরিমাণে দেশি ও চাষের মাছের লেনদেন হয়।

​বিশেষ আকর্ষণ: কেশরহাটের মাছের বাজার থেকে প্রতিদিন শত শত ট্রাক ও পিকআপ ভ্যানে করে মাছ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে পাঠানো হয়। রাজশাহী অঞ্চলের চাহিদা মিটিয়ে এই তাজা মাছগুলো চলে যায় রাজধানী ঢাকা, দক্ষিণাঞ্চল এবং উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায়।

 

​স্থানীয় অর্থনীতিতে অবদান:-

​ঐতিহ্যবাহী এই হাটটি কেবল স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান ও চাহিদাপূর্ণ পণ্য সরবরাহই নিশ্চিত করছে না, বরং পুরো অঞ্চলের অর্থনীতিকে সচল রাখতে চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে। কৃষকদের পরিশ্রমে উৎপাদিত ফসল এবং মৎস্যজীবীদের সংগৃহীত মাছ আজ দেশবাসীর আমিষ ও পুষ্টির চাহিদা পূরণে রাখছে অনন্য ভূমিকা।